এলএমইতে তামার দরবৃদ্ধি অব্যাহত

আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বিশ্বের শীর্ষ দুই উত্তোলনকারী দেশ চিলি ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) গতকাল তিন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে তামার দাম বেড়ে টনপ্রতি ১০ হাজার ৭৯২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

ইন্দোনেশিয়ার গ্রাসবার্গ খনিতে কাদামাটির ঢলে নিখোঁজ পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর দাম বৃদ্ধিতে আরো প্রভাব ফেলেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ খনি থেকে উত্তোলনে ব্যাঘাতের কারণে প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার টন তামা উত্তোলন কমতে পারে। এ পরিস্থিতিতে গোল্ডম্যান স্যাকস, সিটি ও ব্যাংক অব আমেরিকা তামার দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার এএনজেড ব্যাংকের এক নোটে বলা হয়েছে, ‘তামার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চিলি ও ইন্দোনেশিয়ার সরবরাহ সংকট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে।’

চিলির রাষ্ট্রায়ত্ত কোডেলকোর প্রধান খনিতে জুলাইয়ের শেষে দুর্ঘটনার পর আগস্টে দেশটির তামা উত্তোলন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

এএনজেড আরো জানায়, ‘খনি থেকে সরবরাহ জটিলতা ও চীনের ‘অ্যান্টি-ইনভলিউশন’ নীতির প্রভাবে পরিশোধিত তামা উত্তোলনের প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।’

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএফএ) জানায়, ২০২৬ সালে তামার গড় দাম দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ১১ হাজার ৩১৩ ডলারে, যা আগের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। ২০২৭ সালের জন্য গড় মূল্য ধরা হয়েছে টনপ্রতি ১৩ হাজার ৫০১ ডলার। এক্ষেত্রে তামার দামের পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিওএফএর হালনাগাদ প্রাক্কলন অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম কিছু খনিতে উত্তোলন ব্যাহত হওয়ায় তামার সরবরাহ সংকট আরো বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিওএফএ।

এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার গ্রাসবার্গ, চিলির এল টেনিয়েন্তে ও কঙ্গোর কেমোয়া-কাকুলা খনি।

একই সঙ্গে চিলির টেকের কেব্রাদা ব্লাঙ্কা-টু প্রকল্পে বিলম্ব ও পানামার কোব্রে প্রকল্পের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকা বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

আরও